সকাল বিকালের দোয়া, আমল ও যিকিরঃ-
ভূমিকাঃ-
সাহাবি ও আওলীয়া কেরামগণ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদ্ধতিতে দোয়া পড়ে বা আমল ও যিকির করে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রিয় হয়েছে। তাই আমাদের উচিত তাদের পথ অনুসরণ করা। আসুন আমরা
সকাল বিকালের দোয়া, আমল ও যিকির এর গুরুত্ব অত্যাধিক।
সকাল বিকালের দোয়া, আমল ও যিকিরসমূহঃ-
যদি আমরা প্রতি দিন সকাল বিকাল এই দোয়া ও আমল এবং যিকির গুলো করতে পারি তা হলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব হবে, আসুন সকাল বিকালের দোয়া, আমল ও যিকিরসমূহ শুরু করিঃ-
আয়াতুল কুরসী যেটা কে আমরা আল্লাহুর দোয়া বলি তা পাঠ করব।
(সূরা আল-বাকারাহ্ আয়াত নং ২৫৫)
আয়াতুল কুরসিতে মোট ৯টি বাক্য আছে। প্রথম বাক্যের সঙ্গে নবম বাক্যের,
দ্বিতীয়র সঙ্গে অষ্টম বাক্যের
তৃতীয়র সঙ্গে সপ্তম বাক্যের ও
চতুর্থ বাক্যের সঙ্গে ষষ্ঠ বাক্যের
অলৌকিক মিল আছে ! বাদ পড়ে শুধু মাত্র পঞ্চম বাক্য।
সেটির মাঝে থেকে কী সুন্দরভাবে তার অর্থ ও অবস্থানকে অর্থবহ করে তোলে। সুবহানাল্লাহ
যে ব্যক্তি সকালে তা অর্থাৎ আয়াতুল কুরসি বলবে, সে বিকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে, আর যে ব্যক্তি বিকালে তা অর্থাৎ আয়াতুল কুরসি বলবে, সে সকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে। (হাদীসটি শাইখ আলবানী একে সহীহুত তারগীব ওয়াত-তারহীবে সহীহ বলেছেন ১/২৭৩)
হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত,
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজ শেষে আয়াতুল কুরসি পড়েন, তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না।
হযরত আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা.) রাসুলুল্লাহকে (সাঃ) জিজ্ঞেস করেছিলেন,
হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে?
উত্তরে রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন,
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) একদিন দেখতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি সদকার মাল চুরি করছে। তখন তিনি তার হাত ধরে বললেন, ‘আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুল (সা.)–এর কাছে নিয়ে যাব।’ তখন আগন্তুক বলে যে সে খুব অভাবী। আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন। পরদিন সকালে রাসুল (সা.)–এর কাছে আসার পর তিনি আবু হুরায়রা (রা.)–কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘গতকাল তোমার অপরাধীকে কী করেছ?’ আবু হুরায়রা তখন তাকে ক্ষমা করার কথা বললেন। রাসুল (সা.) বললেন, ‘সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে, সে আবার আসবে।’ পরদিন আবু হুরায়রা চোরকে পাকড়াও করলেন আর বললেন, ‘এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুল (সা.)–এর কাছে নিয়ে যাব।’ এবারও সেই চোর বলে যে সে খুব অভাবী আর তার অনেক প্রয়োজন আর শপথ করে যে আর আসবে না।
পরদিন আবারও রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি একই জবাব দেন আর তখন তিনি বলেন, ‘আসলেই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবারও আসবে।
পরের দিন আবারও আবু হুরায়রা (রা.) চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন আর যখন সে আবারও চুরি করতে এল, তখন তিনি তাকে ধরে পেললেনন আর বললেন, ‘এবার অবশ্যই আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর কাছে নিয়ে যাব।
চোর যখন দেখল এবার তাকে সত্যিই রাসুল (সাঃ) এর কাছে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন অবস্থা দেখে সে বলে, ‘আমাকে মাফ করো। আমি তোমাকে এমন কিছু বলে দেব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন।
আবু হুরায়রা (রা.) সেটা জানতে চাইলে চোর বলে, ‘যখন ঘুমাতে যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবে, তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহারাদার নিযুক্ত করবেন, যে তোমার সঙ্গে থাকবে আর কোনো শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না।
এটা শুনে আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দিলেন। পরের দিন রাসুল (সা.) আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বললেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে।
রাসুল (সা.) আবু হুরায়রা (রা.) কে বললেন,
তুমি কি জানো সে কে?’ আবু হুরায়রা (রা.) বললেন না।
রাসুল (সা.) আবু হুরায়রা (রা.) কে বললেন, ‘সে হচ্ছে শয়তান।’ [সহিহ বুখারি নম্বর ২৩১১]
তাই প্রতি নামাজ শেষে, ঘুমানোর আগে বেশি বেশি আয়াতুল কুরসি পাঠ করার অভ্যাস করুন।
<<<<<<<<<<<<সমাপ্ত>>>>>>>>>>>>>>>>
যে কোন মাসয়ালা জানতে ক্লিক করুন
https://youtu.be/Dzsd4A0e2fs
0 মন্তব্যসমূহ
welcome to my blog