সূরা ফাতিহার আমল ও ফজিলত সম্পর্কে জানলে অবাক হবেন ।। সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ, আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহ মাতুল্লাহী ওয়াবারাকাতুহ। আশা করি মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সবাই ভাল আছেন। আপনাদের ভাল থাকা আর ভাল লাগাকে সঙ্গে নিয়েই, আজ নতুন আরো একটি ইসলামিক বিষয় নিয়ে আমি আলোচনা করতে যাচ্ছি। পুরো বিষয়টা মনোযোগ সহকারে পাঠ করবেন আশা করি আপনাদের ইহকাল ও পরকালের উপকারে আসবে ইনশাল্লাহ। ফাতিহা শব্দের অর্থ শুরু,আরম্ভ, উদঘাটন, উদ্বোধন, ইত্যাদি। পবিত্র কুরআনুল কারিমের ১১৪টি সূরার মধ্যে প্রথম সূরাটি হলো এই সূরাতুল ফাতিহা। আর এ জন্য সূরা ফাতিহাকে‘ফাতিহাতুল কুরআন’ অথবা কুরআনের শুরু বলে অভিহিত করা হয়। সূরা ফাতিহাকে সূরাতুল হামদ, উম্মুল কুরআন, আসসাবউল মাছানি, সূরাতুল কাফিয়্যাহ, ওয়াকিয়াহ, সূরাতুশ শিফা, সূরাতুল কানয, সূরাতুল আসাস নামেও অভিহিত করা হয়। সূরা ফাতিহার প্রত্যেকটি বাক্য ও শব্দ উচ্চারণ করা খুবই সহজ। যে কেউ ইচ্ছা করলে সূরা ফাতিহা সহজে মুখস্থ করতে পারে। এছাড়া ও মক্তব, মাদ্রাসা ও মসজিদে কুরআনুল কারিমের প্রথম সবক সূরা ফাতিহার মাধ্যমে দেয়া হয় এটা অবশ্যই সবার যানা আছে। নামাজ আদায়ের জন্য কুরআনুল কারিম থেকে প্রথমে যে দশটি সূরা মক্তব ও মাদরাসায় পড়ানো হয়।এ ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা প্রথমে পড়ানো হয়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,আমি আপনাকে দান করেছি বারংবার আবৃত্তির সাতটি আয়াত। (সূরা হিজর: ৮৭)। বেশির ভাগ মুফাসসিরে কুরআনের অভিমত হলো, বার বার পাঠের জন্য যে সাতটি আয়াতে কালিমার ইঙ্গিত সূরা হিজরের মধ্যে এসেছে তা সূরা ফাতিহার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক নামাজে সূরা ফাতিহা বার বার পাঠ করা হয় বলে এ সূরাকে সূরাতুস সালাত (সালাতের সূরা) ও বলা হয়। এ সূরার সাতটি আয়াতের প্রথম চারটি আয়াতে আল্লাহর প্রশংসা এবং শেষ তিনটি আয়াতে বান্দার ছাহিদা বা প্রার্থনার কথা বর্ণনা করা রয়েছে। হযরত আবু সাঈদ ইবনে মুয়াল্লা (রাঃ)হতে বর্ণিত হয়েছে। একদা হযরত রাসূল(সাঃ) বললেন, আমি কি মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শিক্ষা দেবো না? তার পর যখন মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতর সূরা শেখাবার কথা বলেছিলেন? তিনি বললেন, তা হলো সূরা-আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। (বুখারি শরিফ) হযরত ইবনে আব্বাস( রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, এক সময় জিব্রাঈল (আঃ) নবী করিম( সাঃ)-এর কাছে বসা এই অবস্থায় উপর দিক থেকে একটি দরজা খোলার আওয়াজ শুনে উপর দিকে মাথা উঠিয়ে বললেন, আকাশের এ দরজাটি আগে আর কখনো খোলা হয়নি। নবী করিম (সাঃ) বললেন, ওই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা নেমে আসতে দেখলাম। জিব্রাঈল (আঃ) বললেন, এই ফেরেশতা জমিনে এর আগে আর কখনো নামেনি। নবী করিম (সাঃ) বললেন, ওই ফেরেশতা আমাকে বলল, দুই টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন, যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। যা আপনার আগে কোনো নবী (আঃ)-কে দেয়া হয়নি। তা হলো সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ । (মুসলিম) সম্মানিত পাঠক বৃন্ধঃ- সূরা ফাতিহার ফজিলতের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। খাজিনাতুল আসরার’ কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ফজরের সুন্নত নামাজ আদায় করে ফরজ নামাজ আদায়ের আগে কেউ যদি বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা ৪০ বার পাঠ করে তাহলে ওই ব্যক্তি নিঃসন্তান থাকলে সন্তান হবে, বেকার থাকলে চাকরি হবে, ঋণ থাকলে ঋণ পরিশোধের উপায় হয়ে যাবে, সম্পদহীন থাকলে সম্পদ লাভ হবে, অসুস্থ থাকলে সুস্থ হয়ে যাবে ও বিপদাপন্ন হলে উদ্ধার পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন, কোনো বিপদে পতিত ব্যক্তি এক হাজার বার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে ওই ব্যক্তির আর বিপদ থাকতে পারে না। হযরত ইমাম জাফর সাদেক (রাঃ) বলেছেন, ৪১ বার সূরা ফাতিহা পাঠ করে পানিতে ফুঁক দিয়ে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে খাওয়ালে অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে। (তাওয়ারিখে মদিনা)। এ ছাড়া ও কুরআনের একটি হরফ বুঝে পাঠ করলে ১০টি নেকি লাভ হয়। সূরা ফাতিহায় ১২৫টি হরফ রয়েছে। ১২৫টি হরফ যিনি পাঠ করবেন তার আমল নামায় মোট ১,২৫০ টি নেকি দান করা হয়। শেষ কথাঃ- তাই প্রিয় শ্রোতা বৃন্দ আসুন আমরা মহান আল্লাহর এই পবিত্র সূরা পাঠ করার মাধ্যমে, আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি, মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই আমল করার তাওফিক দান করুন আমিন। এই প্রত্যাশা করে আমাদের আজকের আলোচনা এখানেই শেষ করছি খোদা হাফেজ। 👉 আরু পড়ুন 👍